ভারতের অতিরিক্ত চাল মজুদে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে না

বিশ্ববাজারে চালের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বিশ্ববাজারে চালের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে ভারতের মজুদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে শিগগিরই দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন রফতানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা। খবর রয়টার্স।

২০২৪ সালের মার্চে ভারত সরকার চাল রফতানির সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এতে বিশ্ববাজারে ভারতের চাল সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে যায় ও দাম দ্রুত কমে যায়। ভারতীয় আধা সেদ্ধ চালের দাম ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছায়। অন্যদিকে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের চালের দাম তিন-পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

বর্তমানে চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ায় দামে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা কম করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশটির অতিরিক্ত মজুদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালের মধ্যে দামের উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের আশা করছেন না অধিকাংশ রফতানিকারক।

রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিভি কৃষ্ণ রাও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে বড় ধরনের দরপতনের পরও চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি।’

সংস্থাটি ধারণা করছে, ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম ২০২৫ সালের বাকি সময়জুড়ে টনপ্রতি ৩৯০ ডলারের আশপাশে থাকবে। দামে হেরফেরের পরিমাণ ১০ ডলারের বেশি হবে না।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন ৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টনে পৌঁছবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। মোট সরবরাহ (মজুদসহ) দাঁড়াবে ৭৪ কোটি ৩০ লাখ টনে, যেখানে চাহিদা থাকবে ৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টনের মতো।

শুধু ভারতেই সরকারি গুদামে ৬ কোটি ৩১ লাখ টন চাল মজুদ আছে, যা সরকারি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পাঁচ গুণ। আবার চলতি বছরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে উৎপাদন আরো বাড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতারা এখনই নতুন অর্ডার দিচ্ছেন না। রফতানিকারকরা বাজার ধরে রাখতে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ফলে চালের দাম বাড়ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে ভারতে চাল রফতানি ২৫ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছবে, যা বৈশ্বিক বাজারে ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি অংশ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ওলাম এগ্রি ইন্ডিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিতিন গুপ্ত বলেন, ‘ভারত এরই মধ্যে আগের বাজার পরিস্থিতি ফিরে পেতে শুরু করেছে।’

তবে ভারতের চাপের কারণে অন্য রফতানিকারক দেশগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে থাইল্যান্ডের চাল রফতানি ৩০ শতাংশ কমেছে। গোটা বছরের হিসাবে সার্বিক পতনের হার ২৪ শতাংশ হতে পারে। ভিয়েতনামের রফতানিও ১৭ শতাংশ কমে ৭৫ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।

এদিকে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো আমদানিকারক দেশগুলো কম দামের সুবিধা নিচ্ছে। পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা মানুষের কারণে চালের চাহিদা বেড়েছে।

রাও বলেন, ‘ভারতের রফতানি পুনরায় শুরু হওয়ায় ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন। যদিও এতে কিছু রফতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

আরও